শুধু সুন্দরবন! নাকি জনপদও ?

Sohag Sheikh ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ফিচার
img

 

   রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে নানা জন নানা মত দিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে দুটি সুস্পষ্ট ধারা দৃশ্যমান। দুটি ধারাই কথা বলছেন সুন্দরবন নিয়ে। কিন্তু সুন্দর বনের চেয়ে গুরুত্ব পূর্ণ উপাদান মানুষ থেকে যাচ্ছে আলোচনার বাইরে। এই এলাকার মানুষের জীবনে সুন্দরবনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আবদান রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র হলে এই জনপদে ( সুন্দরবন বাদ দিয়ে) অন্য কি প্রভাব ফেলতে পারে পাঠকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

   মূল বিষয়ে প্রবেশের আগে আমি কেন এবিষয়ে মাথা ঘামাচ্ছি তার কারণ ব্যাখ্যা করতে চাই। আমি আমার কর্মজীবনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে পরিকল্পনাবীদ হিসাবে কাজ শুরু করি।  পরবর্তীতে পরিবেশ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ হিসাবেও কাজ করেছি। এরপর একটি এন.জি.ও-তে বর্জ ব্যবস্থাপনা নিয়েও কাজ করেছি।সব শেষে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগে পানিয় জলের উৎস সন্ধান প্রকল্পে কাজ করেছি যা খুলনা বিভাগে কাজ করছিল। ফলে আমার কর্মজীবনে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক বিশেষজ্ঞদের সাথে কাজ করে কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি বলে মনে করছি। এখানে আমি কোন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হাজির করব না। শুধু আমার দেখা, জানা কিছু বিষয় পাঠকের সামনে তুলে ধরবো। পাঠক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষের ও বিপক্ষের বিভিন্ন যুক্তির সাথে আমার বিষয় গুলো মিলিয়ে যা বোঝার বুঝে নেবেন বলে আশা করছি।

   ২০০৫- ২০০৬ সালের দিকের কথা, কয়েক জন জাপানি সহ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তার সাথে মাঠ পরিদর্শনে রাজশাহী যাচ্ছি। যাত্রা পথে বিভিন্ন আলোচনা শেষে বিদ্যুতের লোড শেডিং প্রসঙ্গ চলে এলো। আমাদের ভাষ্যে লোড শেডিং-এর কারণে দেশ ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। জাপানি জিজ্ঞাসা করলেন ২৪ ঘন্টায় কয় ঘন্টা লোড শেডিং? উত্তর এলো একেক এলাকায় একেক রকম কোথাও ২-৩ ঘণ্টা কোথাও ৩-৪ ঘণ্টা। জাপানি শুনে বললো এতো তেমন কিছু না। ভিয়েতনামে সারাদিন বাসা বাড়িতে বিদ্যুৎ থাকেনা, সন্ধ্যায় আসে ১০টা পর্যন্ত থাকে। আর অফিস-আদালত, কল-কারখানায় সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকে, সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত থাকে না। বাংলাদেশের অবস্থা কি এর চেয়ে খারাপ ছিল?

  ক)সারাদেশে সি, এফ, এল বাতি ব্যবহার (দাম কমিয়ে) বাধ্যতা মূলক করলে আলোর জন্য ব্যবহৃত বিদ্যুতের চাহিদা এক চতুর্থাংশে নেমে আসার কথা কিন্তু সে ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি?

  খ)হাসপাতাল ও কোল্ড স্টোরেজ ছাড়া এসি ব্যবহার নিষিদ্ধ বা ব্যবহারের উপর ৩০০% চার্য ধার্য এসি ব্যবহার কমে যাবে। যারা ব্যবহার করছে তারা ভর্তুকী তো পাবেই না উপরন্তু জরিমানা গুনতে হবে। সরকার কি তা করবে?

  লোড শেডিং-এর নাকানি চুবানি খেয়ে মানুষ বলতে বাধ্য হয়েছে, দাম যাইহোক বিদ্যুতের ব্যবস্থা কর।  বলা হয়েছিল শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া হবে কিন্তু প্রতি ইউনিটের মুল্য হবে ১৪টাকা। সে সুযোগ কোন শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়নি। কারণ সম্ভবত নিজেরা তেল (ডিজেল ৬০ টাকা লিটার) পুড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে তার চেয়ে সস্তা হয়। তেলের দাম কমাতে খরচ আরো কমেছে। কিন্তু সাধারণ জনগন বাধ্য হচ্ছে সরকার ও কোম্পানি নির্ধারিত হারে বিল দিতে। যা ক্ষেত্র বিশেষ ১৪টাকার আসে পাশে।

    বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। আমাজান অববাহিকার পর গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকা দিয়ে সবচেয়ে বেশি মিঠাপানি প্রবাহিত হয়ে সাগরে পড়ে। এ থেকে সকলের সাধারণ ধারণা যে বাংলাদেশে কোথাও পানীয় জলের সঙ্কট নেই। কিন্তু পানি ব্যবহারের সঠিক পরিকল্পনার অভাবে ভূগর্ভস্থ আর্সেনিক ও আয়রনের দুষণ ঘটছে। ফলে ৩ পার্বত্য জেলা ছাড়া বাকি ৬১ জেলার পানিতেই কম বেশি আর্সেনিক দুষণ বিদ্যমান।

     ফারাক্কা বাধের ফলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ থাকে না। এজন্য অববাহিকায় লবনাক্ত পানির অনুপ্রবেশ ঘটে। যা এঞ্চলের প্রতিবেশ বদলে দিচ্ছে। সুন্দরবন ও সুন্দরবনকে ঘিরে থাকা জনপদ এই প্রতিবেশ সমস্যা মোকাবেলা করছে। এই লবনাক্ততার প্রভাব উত্তরে, যশোর, নড়াইল, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

     বাংলাদেশ সহ এ উপমহাদেশ মৌসুমী জলবায়ুর দেশ। আবহমান কাল ধরে প্রাকৃতিক কারণ ছাড়া এ প্রতিবেশের পরিবর্তন হয়নি। তথা কথিত উন্নয়নের ফলে প্রতিবেশের পরিবর্তন ঘটছে। যার প্রভাব পড়ছে জলবায়ুর ক্ষেত্রেও। বাংলাদেশের স্বাভাবিক মৌসুমের স্থায়ীত্বকালের ও সময়ের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তেনের ফলে বৃষ্টিপাতের হারও কমে যাচ্ছে। যার ফলে খুলনা, বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের কয়েকটা জেলায় নদীর পানির লবনাক্ততার মাত্রা দু-তিন মাস কিছুটা কম থাকে। সুন্দর বনের পার্শবর্তী উপজেলা গুলোর মধ্যে যে গুলোতে মিঠাপানির  ভূগর্ভস্থ উৎস নেই। সেই সব উপজেলার লোক বর্ষাকালে নদীর জল পান করে। আর বড় বড় পুকুরে পাম্পের সাহায্যে পানি তুলে রেখে সারা বছরের জন্য সংরক্ষণ করে।

   বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ কনসালট্যান্টের মাধ্যমে পানীয় জলের উৎস খোঁজা ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে তা গ্রামীণ জনপদে এ সুবিধা পৌঁছে দেবার জন্য প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ উপজেলা পর্যায়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলিদের কাছে পানীয় জলের স্বল্পতা রয়েছে এমন স্থানের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। সেখানে পানীয় জলের স্বল্পতা রয়েছে এমন দুই ধরণের স্থানের তালিকা পাওয়া যায়। ১. আর্সেনিক ও আয়রন জনিত সমস্যা ২. লবনাক্ততা, আর্সেনিক ও আয়রন জনিত সমস্যা ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের অপ্রাপ্ততা। আর্সেনিক-আয়রন প্রধান সমস্যা হিসাবে পাওয়া গিয়েছিল যশোর ও নড়াইল জেলা। লবনাক্ততা, আর্সেনিক-আয়রন ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের অপ্রাপ্ততা সমস্যা পাওয়া গিয়েছিল সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগের হাট জেলার সব উপজেলায়। এর মাত্রা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট জেলা থেকে যত দক্ষিণে যাওয়া যায় সমস্যার মাত্রা তত বেড়ে যায়।ঐ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত না হলেও পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা ও পটুয়াখালি জেলাতেও একই ধরণের সমস্যা কম-বেশি বিদ্যমান।

১০

       ক) কয়রা উপজেলায় সিডর (২০০৭) আইলা(২০০৯) ৩-৪ বছর পরও ঐ এলাকার লোক পানীয় জলের জন্য পুকুরে সংরক্ষিত বৃষ্টির পানির উপর নির্ভরশীল ছিল। কিছু ইউনিয়নে উপজেলা সদর থেকে ভ্যানে করে পানি কিনে নিয়ে পান করে।  

        খ)কয়রার উত্তরে অবস্থিত পাইকগাছা উপজেলা। পাইকগাছা উপজেলার ছোলাদানা ইউনিয়নের ভূমিহীনদের জন্য নির্মিত গুচ্ছগ্রামের পুকুরে বর্ষা কালে পশুর নদীর পানি পাম্প দিয়ে ধরে রাখে সারা বছর না ফুটিয়ে (জ্বালানির অভাবে) পান করে। এই পুকুরের পানি সংগ্রহের জন্য ৩-৪ কিঃমিঃ দূর থেকে মহিলারা আসে প্রতিদিন।

        গ) মঠবাড়িয়া উপজেলা সদরে পৌরসভা এলাকায় ঘন বসতি লক্ষ্য করা যায়। এ এলাকার লোক বর্ষায় বৃষ্টির পানি পান করে। আর শুষ্ক মৌসুমের জন্য প্রতি বাড়িতে ৩০-৪০টি প্লাস্টিকের ড্রামে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে রাখে।

        ঘ) প্রাইভেট-পাবলিক পার্টনারশীপ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৬০টি গ্রামের নামের প্রস্তাব এসেছিল।এর সবগুলই রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আস-পাশের। নানা বিধ জটিলতায় যথা সময়ে বাস্তবায়ন হয়নি প্রকল্পটি। কোন কোন টি রামপালের ১-২ কিঃমিঃ-এর মধ্যে কোন কোনটি ২০-২৫ কিঃমিঃ দূরে, কোনটি মাঝামাঝি।

১১

      কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্গত ছাই, সালফার মার্কারী, কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন-মনো-অক্সাইড সহ অন্যান্য রাসায়নিক বর্জ যদি বাতাসে মেশে তার প্রতিকৃয়া কি হবে তা আমার জানা নেই। বিশেষজ্ঞগণই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।

তবে যদি এথেকে বাতাসের মাধ্যমে বৃষ্টির পানি দূষিত হয় তবে সুন্দর বনের কি ক্ষতি হবে জানি না চার পাশের জনপদ যে বিলুপ্ত হবার সম্ভবনা আছে কিনা পাঠকগণ নিশ্চয় ভেবে দেখবেন।

লেখকঃ কামরুল হাসান খান  

সম্পর্কিত আরো পোস্ট

আমাদের ফেইসবুক

রাশিফল

  • sagittarius

    মেষ

  • sagittarius

    বৃষ

  • sagittarius

    মিথুন

  • sagittarius

    কর্কট

  • sagittarius

    সিংহ

  • sagittarius

    কন্যা

  • sagittarius

    তুলা

  • sagittarius

    বৃশ্চিক

  • sagittarius

    মকর

  • sagittarius

    কুম্ভ

  • sagittarius

    মীন

  • sagittarius

    ধনু

  • মেষ 22 January 2017

    কোনো ব্যাপারে অনিশ্চয়তায় ভুগতে পারেন। প্রতিপক্ষকে আয়ত্তে আনতে আরো অপেক্ষা করতে হবে। বন্ধু কিংবা সহকর্মীর পেছনে অর্থ ব্যয় হবে। সন্তানদের লেখাপড়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়বে।

  • বৃষ 22 January 2017

    তুচ্ছ কারণে এই রাশির জাতকরা আজ হয়রানির শিকার হতে পারেন। বুদ্ধি দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারলে লাভবান হবেন। সহকর্মীদের সহযোগিতা পাবেন কর্মক্ষেত্রে।

  • মিথুন 22 January 2017

    অন্যের কথায় নির্ভর না করে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিন। বিক্ষিপ্তভাবে কাজ করে সময় নষ্ট করলে দিনশেষে খেসারত দিতে হবে। প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে আরো ধীরস্থির হতে হবে। 

  • কর্কট 22 January 2017

     

    আজ অসাবধানতার কারণে কোনো জিনিস হারাতে পারে। পুরনো পাওনা আদায়ে নতুন বিড়ম্বনায় পড়বেন। পারিবারিক ঝামেলা এড়াতে আরো কৌশলী হওয়ার দরকার। 

  • সিংহ 22 January 2017

     

    এই রাশির জাতকদের আজ কর্মক্ষেত্রে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা আছে। শিল্প, সাহিত্য কিংবা বিনোদনমূলক কাজে জড়িয়ে যেতে পারেন। আজ গান শুনতে মন চাইবে। যাত্রা শুভ। 

  • কন্যা 22 January 2017

    বাড়িতে অতিথির আগমন ঘটবে। দিনশেষে প্রশংসা মিলবে রাজনীতিবিদদের। কর্মস্থলে কোনো সহকর্মী ঝামেলা পাকাতে পারেন। ভুল বোঝাবুঝি হবে প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে। 

  • তুলা 22 January 2017

    স্থলপথের যাত্রায় সতর্ক থাকুন। কোথাও থেকে কোনো সুখবর পেতে পারেন। কাজকর্মের অগ্রগতি হবে। ভালো যাবে পারিবারিক সম্পর্কও। প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে।

  • বৃশ্চিক 22 January 2017

    আজ আত্মীয়ের সংখ্যা বাড়বে। পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়বে শিক্ষার্থীদের। কর্মক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। প্রেমিক-প্রেমিকার মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হবে।

  • মকর 22 January 2017

    নতুন কোনো কাজের সন্ধান মিলবে। স্বাস্থ্য খুব একটা ভালো যাবে না, পুরনো কোনো ব্যাধিতে ভুগতে পারেন। যানবাহনের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। দুর্ঘটনার আশঙ্কা আছে। বিনোদন শুভ।

  • কুম্ভ 22 January 2017

    অর্থনৈতিক সমস্যায় বিচলিত হওয়া ঠিক হবে না। বরং ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই ভালো। এ ছাড়া কাজকর্মে মনোযোগ দিতে হবে। অন্যকে খুশি করতে বাড়াবাড়ি করবেন না। 

  • মীন 22 January 2017

    সামাজিক কাজে এই রাশির জাতকরা প্রশংসা পাবেন। ঠিকঠাক দায়িত্ব পালনের কারণে আজ আপনার দায়িত্ব আরো বেড়ে যাবে। পারিবারিক ঝামেলায় উদ্বেগ বাড়বে। দূরের যাত্রা শুভ। 

  • ধনু 22 January 2017

    নতুন গৃহসামগ্রী কিনতে গিয়ে অনেকগুলো টাকা খরচ হবে। বিদেশি সংস্থা বা ব্যক্তির সঙ্গে চুক্তি হবে কারো কারো। বিনোদন ও রোমান্স শুভ। স্ত্রীকে আরো বেশি সময় দিন। দূরের যাত্রা শুভ। 

ফটো গ্যালারি